সুন্দরবনে লোকে যান বাঘ বা কুমির দেখতে। ম্যানগ্রোভ দেখতে দেখতে নৌকায় ঘোরার আনন্দই আলাদা। তবে চেনা ছকের বাইরে গিয়ে নিখাদ গ্রাম জীবনের স্পর্শ পেতেও সফর করা যায়।
সুন্দরবন বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে হলুদ-কালো ডোরাকাটা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি। যাকে দেখার আগ্রহ যেমন আছে, তেমন আছে ভয়ও। ম্যানগ্রোভে ঘেরা বনভূমি নিয়ে প্রবাদ আছে, ‘জলে কুমীরের ভয়, ডাঙায় বাঘ’। সুন্দরবন মানেই প্রতি পদে পদে রোমাঞ্চ।
ভারতের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ অরণ্যের পরিচয় কি এটুকুই? শুধুমাত্র প্রকৃতি এবং বন্যপ্রাণের অনুসন্ধান! পাখি দেখিয়ে, পরিবেশ প্রেমীদের কাছে এই অঞ্চলের আলাদা মাহাত্ম্য আছে সবসময়েই। তবে গত কয়েক বছরে ভ্রমণের সংজ্ঞা বদলেছে। বর্ষা এলেই সুন্দরবনে যাওয়ার হিড়িক হয়েছে ইলিশ উৎসব উদ্যাপনে। নদীর বুকে ভাসতে ভাসতে ভাত, ইলিশ মাছ খাওয়া, ম্যানগ্রোভের অরণ্যের জনপ্রিয় স্পট ঘোরা এ ভাবেই ইদানীং বিখ্যাত ব-দ্বীপ অঞ্চলকে চিনছেন লোকে।
কিন্তু চেনা ছকের বাইরে নিখাদ গ্রাম জীবন উপভোগের বাসনা থাকলে ভ্রমণ তালিকায় রাখতে পারেন সুন্দরবন। গোসাবা ব্লকে চার দিকে নদী ঘেরা ছোট্ট গ্রাম কুমিরমারী। ইদানীং কিছু কিছু উৎসাহী পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকায় এই স্থান জায়গা করে নিচ্ছে।
নদী বেষ্টিত দ্বীপ এই গ্রাম। আর পাঁচটি গ্রামের চেয়ে কুমিরমারীকে আলাদা করেছে প্রকৃতি। এখানে আসতে হলে জলপথই ভরসা। রায়মঙ্গল, কুরানখালি, পুইজালি এবং সারসা নদী বেড় দিয়ে রেখেছে দ্বীপটিকে। এখান নিবিড় ভাবে উপভোগ করা যায় প্রকৃতি। দেখা যায় ম্যানগ্রোভ।
গ্রামের মানুষের জীবীকা চাষবাস। কেউ কেউ মাছ ধরেও দিন গুজরান করেন। বিকল্প জীবীকার সন্ধানেই ইদানীং মৌমাছি পালনও শুরু করেছেন এক, দু’জন। সব মিলিয়ে বড্ড সরল এখানকার জীবনযাত্রা। দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি, জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে দু’টি দিন এমন গ্রামে কাটানো যেতেই পারে।
পর্যটনের প্রসারে ইকো রিসর্ট তৈরি হয়েছে। রয়েছে টুকিটাকি কয়েকটি থাকার জায়গা। কুমিরমারীতে ঘোরার জন্য বিশেষ কোনও ‘স্পট’ নেই। তবে, গ্রামের খেত-খামার, নদী, পথ, খালবিল দেখে দিব্যি সময় কাটানো যায়। গাছে ফলে থাকা সব্জি, ফল— এখন আর দেখার সুযোগ কোথায় হয়? বাড়ির ছোট্ট সদস্যকে যদি গ্রাম বাংলা চেনাতে চান, দেখাতে চান ম্যানগ্রোভ, বইয়ে পড়া ব-দ্বীপ অঞ্চল তা হলে এ ভাবেও ঘোরার পরিকল্পনা করতে পারেন।

0 Comments