কলকাতার বুকেই ‘জীবন্ত’ দেবী! সাধারণ থেকে তারকা, সবার গন্তব্য এখন কাদাপাড়ার মনসা মন্দির

কলকাতার বুকে জাগ্রত মনসা মন্দির! কাদাপাড়ার এই অলৌকিক তীর্থস্থানে কেন উপচে পড়ছে ভিড়?

মহানগরীর ব্যস্ততার আড়ালেই লুকিয়ে থাকে অগাধ বিশ্বাস আর অলৌকিক সব গল্প। তেমনই এক বিস্ময়ের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে কাঁকুড়গাছি লাগোয়া কাদাপাড়ার মনসা মন্দির। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে বর্তমানে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া এই মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামছে প্রতিদিন। দাবি একটাই— এখানের দেবী ‘জীবন্ত’, আর মায়ের কাছে মন থেকে কিছু চাইলে কেউ নাকি খালি হাতে ফেরেন না!

ছবি থেকে আস্ত মন্দির: এক লড়াইয়ের কাহিনি

আজকের সুবিশাল এই মন্দির কিন্তু রাতারাতি গড়ে ওঠেনি। প্রায় তিন দশক আগে এই স্থানে মাথার ওপরে কোনো ছাদটুকুও ছিল না। কেবল দুটি দেওয়ালের মাঝে মায়ের একটি ছবি রেখেই আরাধনা শুরু করেছিলেন বর্তমান সেবায়েত ‘আশা মা’। সেই সময় চরম দারিদ্র্য থাকলেও তাঁর বিশ্বাস ছিল অটুট। পরবর্তীতে স্থানীয় মানুষজন এবং রাজ্যের প্রয়াত মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের ঐকান্তিক সহযোগিতায় সেই ছোট্ট পুজোর জায়গাটি আজকের এই সুন্দর পাকা মন্দিরে রূপান্তরিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বরং কলকাতা পুরসভার একটি সর্বজনীন পার্কে গড়ে উঠেছে এই মন্দির।

কেন ‘জীবন্ত’ বলা হয় এই মনসা মন্দিরকে?

এই মন্দিরকে ঘিরে লোকমুখে ঘোরে বহু অলৌকিক অভিজ্ঞতার কথা। শোনা যায়, দেবী নিজেই স্বপ্নাদেশ দিয়ে তাঁর এই পুজোর স্থান নির্দিষ্ট করেছিলেন। একসময় চরম অভাবের মধ্যে দিন কাটানো আশা মায়ের জীবনেও এই পুজো শুরুর পর থেকে নেমে আসে আলো। শুধু তিনি নন, দূরদূরান্ত থেকে আসা অগণিত পুণ্যার্থীর দাবি— কঠিন ব্যাধি থেকে মুক্তি হোক বা জীবনের চরম সংকট, ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে এই মন্দিরে সবই সম্ভব। মানুষের এই অটুট বিশ্বাসের কারণেই আজ এটি ‘জীবন্ত মনসা মন্দির’ হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে।

দর্শন ও পুজোর সময়সূচি

আপনিও যদি এই জাগ্রত মন্দিরে পুজো দেওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে সময়ের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখা জরুরি। ভক্তদের জন্য প্রতিদিন ভোর ৬টায় মন্দিরের দরজা খুলে যায়। তবে দেবীকে পুজো নিবেদনের নির্দিষ্ট সময় হলো সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত। বিকেলের দিকেও মন্দির খোলা থাকে, তবে তখন আর নতুন করে পুজো দেওয়া যায় না, পুণ্যার্থীরা কেবল মায়ের দর্শন পান। এই অলৌকিক মন্দিরে পৌঁছতে হলে আপনাকে আসতে হবে ফুলবাগান-কাঁকুড়গাছি এলাকার ২১ নম্বর মতিলাল বসাক লেনে (কলকাতা ৭০০০৫৪)। এলাকায় এটি ‘কাদাপাড়ার মনসা মন্দির’ নামেই বেশি পরিচিত।

নেটমাধ্যমের যুগে কাদাপাড়ার এই মনসা মন্দিরের কথা এখন আর শুধু নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে নেই, ছড়িয়ে পড়েছে গোটা রাজ্যে। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়েও বিশ্বাস আর অলৌকিকতার এমন অদ্ভুত মেলবন্ধন প্রমাণ করে যে, ভক্তির টান আজও কতটা শক্তিশালী। আজও হাজার হাজার মানুষের মঙ্গল কামনায় মায়ের চরণে প্রদীপ জ্বেলে চলেছেন সেবায়েত আশা মা।

— প্রতিবেদন: Bright Kolkata ডেস্ক

Post a Comment

Previous Post Next Post