🎯 গল্পের প্রেক্ষাপট
ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে সীমান্ত এলাকার অপরাধ দমন এবং দেশের সুরক্ষার একটি বিশেষ মিশনকে কেন্দ্র করে, যার পোশাকি নাম ‘দেশু’। প্রাক্তন আইপিএস অফিসার দেবাদিত্য অধিকারীর (দেব) ওপর দায়িত্ব পড়ে দেশের শত্রুদের বিনাশ করার। কিন্তু সেই বিপজ্জনক মিশনে নেমেই তার মুখোমুখি হতে হয় পুরনো প্রেম এবং ভয়ংকর প্রতিপক্ষের। দেশের প্রতি কর্তব্য নাকি ফেলে আসা ভালোবাসার টানাপোড়েন—শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোবে দেবাদিত্য, তা নিয়েই এগিয়েছে ছবির মূল কাহিনি।
✨ ফিরে পাওয়া ‘চ্যালেঞ্জ’ যুগের নস্টালজিয়া
‘মন মানে না’, ‘চ্যালেঞ্জ’ বা ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’-র সময় দর্শক যে দেব-শুভশ্রীকে ভালোবেসেছিল, ‘দেশু সেভেন’ সেই সোনালি দিনগুলোর নস্টালজিয়াকেই নতুন করে উসকে দিয়েছে। পর্দায় তাঁদের রসায়ন আজও এতটাই সতেজ যে, বয়সের ছাপ বোঝার উপায় নেই। পুরনো ছবির কিছু জনপ্রিয় রেফারেন্স আর রোম্যান্টিক মুহূর্তগুলো কলেজ পড়ুয়া থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শকদের আবারও নতুন করে এই জুটির প্রেমে পড়তে বাধ্য করবে।
🔥 অনির্বাণের বাজিমাত ও দুর্দান্ত অ্যাকশন
দেব-শুভশ্রীর রোম্যান্স ছবির প্রাণ হলেও, অভিনয়ের নিরিখে আসল বাজিমাত করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। নেতিবাচক চরিত্রে তাঁর হিমশীতল অভিব্যক্তি, সংলাপ বলার ধরন এবং স্ক্রিন প্রেজেন্স দর্শকদের সিটের সঙ্গে বেঁধে রাখে। সত্যি বলতে, দেব ও শুভশ্রীর পাশাপাশি অভিনয়ের পাল্লায় অনির্বাণকে একটু বেশিই এগিয়ে রাখতে হয়। তাঁর চরিত্রটি এতটাই শক্তিশালী যে, পর্দায় পরের মুহূর্তে সে কী করতে চলেছে, তা দেখার জন্য দর্শকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা কাজ করে। নিজে নায়ক এবং পরিচালক হয়েও দেব যেভাবে অনির্বাণকে অভিনয়ের অবাধ স্বাধীনতা ও জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
পাশাপাশি ছবিতে অপরাজিতা আঢ্য, কাঞ্চন মল্লিক, রজতাভ দত্ত এবং প্রদীপ ভট্টাচার্যের মতো দক্ষ অভিনেতারা নিজেদের জায়গায় যথাযথ। তবে চিত্রনাট্যে তাঁদের চরিত্রগুলোকে আরও একটু বেশি জায়গা দিলে ছবিটি আরও সমৃদ্ধ হতে পারত।
🎥 পরিচালক দেবের প্রথম পরীক্ষা ও কিছু খামতি
প্রথমবার পরিচালকের আসনে বসেই দেব বুঝিয়ে দিয়েছেন, বড় ক্যানভাসে ছবি তৈরি করতে তিনি কোনো আপস করেননি। প্রোডাকশন ভ্যালু থেকে শুরু করে মেকিং—সবেতেই বাজেটের জাঁকজমক স্পষ্ট। তবে ভালো দিকগুলোর পাশাপাশি কিছু জায়গায় উন্নতির অবকাশ ছিল। বিশেষ করে ছবির গল্পটি আরও একটু ইউনিক বা নতুনত্বের ছোঁয়ায় সাজানো যেত। চেনা ছকের বাইরে বেরিয়ে চিত্রনাট্য আরও একটু শক্তিশালী হলে এই বিশাল আয়োজন অন্য মাত্রা পেত।
পরিচালক হিসেবে গল্পের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে গিয়ে ছবির দৈর্ঘ্য কিছুটা বেশি হয়ে গেছে। প্রথমার্ধ বেশ গতিশীল হলেও দ্বিতীয়ার্ধে এসে গল্প কিছুটা দীর্ঘায়িত মনে হয়। সম্পাদনার কাঁচি চালিয়ে অপ্রয়োজনীয় দু-একটি গান বা দৃশ্য ছেঁটে ফেললে ছবির গতি আরও বাড়ত। এছাড়া ফ্ল্যাশব্যাকের দৃশ্যে দেবের কম বয়সের লুকে ফিটনেসের দিকটি আরও একটু নিখুঁত হতে পারত এবং অনির্বাণের পাল্টা হিসেবে নায়ক দেবের মুখে আরও কিছু মনে রাখার মতো পাঞ্চলাইন বা সংলাপ থাকলে জমে যেত।
🎟️ কেন দেখবেন ‘দেশু সেভেন’?
বাণিজ্যিক ঘরানার ছবিতে যুক্তির মাপকাঠি সরিয়ে রাখলে ‘দেশু সেভেন’ পুরোপুরি একটি ‘পয়সা উসুল’ বিনোদনমূলক ছবি। দীর্ঘ সময় পর বাংলা সিনেমায় এমন লার্জার দ্যান লাইফ অ্যাকশন ও মশলাদার ফ্যামিলি এন্টারটেইনারের দেখা মিলল। যাঁরা গম্ভীর স্বাদের ছবি দেখতে দেখতে ক্লান্ত এবং পুজোর ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সিনেমা হলে গিয়ে নিখাদ আনন্দ পেতে চান, তাঁদের জন্য ব্রাইট কলকাতার চোখে দেবের এই নতুন প্রচেষ্টাটি দারুণ একটি উপহার।




إرسال تعليق